EPISODE · May 1, 2020 · 6 MIN
Episode 10: LunchBox (Tribute to Irfan Khan) । অভীক রায়। অপদার্থ
from অপদার্থের রোজনামচা (BENGALI STORY AND POETRY) · host Swarnendu Roy
"আমরা সেই জিনিসগুলোর কথাই ভুলে যাই যেগুলোর সম্পর্কে কথা বলার মতো আমাদের আর কেউ থাকে না।"- সাজন ফার্নান্ডেজ।মুম্বাই শহরের এক বেসরকারি অফিসের ছোট্ট একটা ডেস্ক। ক্লেইমস ডিপার্টমেন্ট। গাদা গাদা ফাইলের মাঝে বসে, মাথা গুঁজে ক্যালকুলেটর টিপে যাচ্ছেন; চশমা পরা কাঁচা পাকা চুলের এক ভদ্রলোক। এই অফিসের সাথে তাঁর সম্পর্ক পঁয়ত্রিশ বছরের। অবশ্য আর কিছুদিন বাদে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে ভদ্রলোক চলে যাবেন নাসিকে। পাকাপাকিভাবে। সহকর্মীরা ভদ্রলোককে মি.ফার্নান্ডেজ বলে ডাকলেও, ওঁর একটা সুন্দর নাম আছে। যা প্রায় কেউ মনেই রাখেনি। সাজন। সাজন ফার্নান্ডেজ। এই হলো ভদ্রলোকের পুরো নাম। বেশ কয়েকবছর আগে স্ত্রীকে হারিয়ে ফেলা ভদ্রলোক আজ একা। প্রতিদিন অফিস থেকে বেরিয়ে প্রথমে ভিড় লোকাল ট্রেন আর তারপর পাবলিক বাসে চেপে বাড়ি ফেরেন একা একাই। চুপচাপ। উগ্র স্বভাবের জন্য কেউই খুব একটা ধারে কাছে ঘেঁষে না। এমনকি বাড়ির ভিতর ঢুকে যাওয়া পাড়ার বাচ্চাদের খেলার বলটাও তিনি ফিরিয়ে দেন না। রাতে কেনা খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সকাল হলে তৈরী হয়ে আবার দৌড়। দুপুরের খাবারটাও বাড়ির কাছের একটা ছোট হোটেল থেকে আনিয়ে নেন অফিসে। প্রতিদিন লাঞ্চ টাইমের আগে টিফিন বক্স পৌঁছে যায় ডেস্কে। মুম্বাই শহরের এক গৃহবধূ রোজ নতুন নতুন রান্না করেন তাঁর স্বামীর জন্য। সেগুলোকে যত্ন করে একটা টিফিন বক্সে সাজিয়ে তিনি তুলে দেন এক ডাব্বাওয়ালার হাতে। এই ডাব্বাওয়ালারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে এইসব টিফিন বক্স সংগ্রহ করে পৌঁছে দেয় শহরের বিভিন্ন প্রান্তের ছোট বড় অফিসগুলোয়। যাতে অফিসে কাজ করা মানুষগুলো দুপুরবেলা ঘরোয়া খাবারের স্বাদ পান। ঠিকঠাকই চলছিলো সব। তবে একদিন হঠাৎ একটা টিফিনবক্সের ঠিকানা ভুল করে বদলে গেলো। সবুজ কভারে মোড়া টিফিন বক্সটি, ভুল করে পৌঁছে গেলো এক বেসরকারি অফিসের ক্লেইমস ডিপার্টমেন্টের ছোট্ট একটা ডেস্কে। অফিস থেকে ফেরার পর স্বামীর মুখে অন্য একটা তরকারির কৃত্রিম প্রশংসা শুনে ভদ্রমহিলা বুঝতে পারলেন কোথাও একটা ভুল হয়ে গেছে। বদলে গেছে টিফিন বক্সের ঠিকানা। তাই পরেরদিন খাবারের সাথে একটা চিঠি পাঠালেন ভদ্রমহিলা। নিজের নামসহ। টিফিন বক্সের প্রতিটা বাটি চেটেপুটে খাওয়ার জন্য অচেনা মানুষটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে। সেদিন বিকেলে খালি বক্সের সাথে এলো সেই চিঠির উত্তর। "প্রিয় ইলা, আজকের খাবারে নুনটা একটু বেশী ছিলো।" এটুকুই লেখা ছিলো তাতে। এরপর ধীরে ধীরে এগোতে থাকে দিন। চিঠিতে বাড়তে থাকে শব্দের সংখ্যা আর বদলে যেতে থাকে সাজন ফার্নান্ডেজের জীবন। অপেক্ষা নামক শব্দটি আবার ফিরে আসে তাঁর প্রাত্যাহিকতায়। কোনও চিঠিতে সে লেখে তাঁর স্ত্রীর রেখে যাওয়া দূরদর্শনের ভি.সি.আর ক্যাসেটের কথা। কোনও চিঠিতে সে জানতে পারে ওই অচেনা মহিলাটির বাড়ির উপরে থাকা দেশপান্ডে আন্টি ও তার বিকলাঙ্গ বরের কথা। বয়সের ভারে খিটখিটে হয়ে যাওয়া সাজন ধীরে ধীরে পরিণত হয় প্রেমিকে। ফুটপাত দিয়ে যেতে যেতে কিনে নেয় পেইন্টিং। কোনও অচেনা মহিলা ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়েছে শুনলে পরের চিঠি আসা না পর্যন্ত সেই অজ্ঞাত পরিচিতার কথা ভেবে চিন্তায় চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়ে। আর যেদিন সে জানতে পারে যে ওই অচেনা ভদ্রমহিলাটির স্বামী পরকীয়াতে জড়িয়ে পড়েছে, তাই মহিলাটি সবকিছু ছেড়ে মেয়েকে নিয়ে ভূটান চলে যেতে চায়, সে নির্দ্বিধায় লিখে ফেলে— "What if I come to Bhutan with you?" এরপর যেদিন ভদ্রমহিলা জানায় সে দেখা করতে চায়।। আচমকা বয়স যেন কমে যায় সাজনের। ঝলমলিয়ে ওঠে। সিদ্ধান্ত নেয় চাকরি না ছাড়ার। কিন্তু দেখা করার দিন সকালে হঠাৎই সাজন টের পায় নিজের বয়সের কথা। নিজের ফুরিয়ে আসা জীবনের কথা। তাই কথা মতো দুপুর ১.০০টায় কুলার ক্যাফেতে পৌঁছেও দূর থেকে চোখ ভরে দেখে তাঁর ভালোবাসাকে। কাছে যায় না। কথা বলে না। একসময় বিদায় নেয়। নিঃশব্দে। তারপর আর কোনওদিন সাজনের সাথে ইলার দেখা হয় কীনা আমরা কেউ জানতে পারি না। আর আজকের পর জানতেও পারবো না কোনওদিন। তবে এরপর যতবার "লাঞ্চবক্স" ছায়াছবির এই দৃশ্যের মুখোমুখি হবো, এক প্রয়াত ভারতীয় চলচ্চিত্র তারকার অন্য এক ছায়াছবিতে বলে যাওয়া যে সংলাপটা অদ্ভুতভাবে আমার বারংবার মনে পড়বে তা হলো- "মোহাব্বত হ্যায় ইস লিয়ে জানে দিয়া, জিদ হোতি তো বাহোঁ মে হোতি।" ভালো থাকুন সাজন ফার্নান্ডেজ। ❤️Become a supporter of this podcast: https://www.spreaker.com/podcast/apadarthera-rojanamaca-bengali-story-and-poetry--6593287/support.
What this episode covers
"আমরা সেই জিনিসগুলোর কথাই ভুলে যাই যেগুলোর সম্পর্কে কথা বলার মতো আমাদের আর কেউ থাকে না।"- সাজন ফার্নান্ডেজ।মুম্বাই শহরের এক বেসরকারি অফিসের ছোট্ট একটা ডেস্ক। ক্লেইমস ডিপার্টমেন্ট। গাদা গাদা ফাইলের মাঝে বসে, মাথা গুঁজে ক্যালকুলেটর টিপে যাচ্ছেন; চশমা পরা কাঁচা পাকা চুলের এক ভদ্রলোক। এই অফিসের সাথে তাঁর সম্পর্ক পঁয়ত্রিশ বছরের। অবশ্য আর কিছুদিন বাদে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে ভদ্রলোক চলে যাবেন নাসিকে। পাকাপাকিভাবে। সহকর্মীরা ভদ্রলোককে মি.ফার্নান্ডেজ বলে ডাকলেও, ওঁর একটা সুন্দর নাম আছে। যা প্রায় কেউ মনেই রাখেনি। সাজন। সাজন ফার্নান্ডেজ। এই হলো ভদ্রলোকের পুরো নাম। বেশ কয়েকবছর আগে স্ত্রীকে হারিয়ে ফেলা ভদ্রলোক আজ একা। প্রতিদিন অফিস থেকে বেরিয়ে প্রথমে ভিড় লোকাল ট্রেন আর তারপর পাবলিক বাসে চেপে বাড়ি ফেরেন একা একাই। চুপচাপ। উগ্র স্বভাবের জন্য কেউই খুব একটা ধারে কাছে ঘেঁষে না। এমনকি বাড়ির ভিতর ঢুকে যাওয়া পাড়ার বাচ্চাদের খেলার বলটাও তিনি ফিরিয়ে দেন না। রাতে কেনা খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সকাল হলে তৈরী হয়ে আবার দৌড়। দুপুরের খাবারটাও বাড়ির কাছের একটা ছোট হোটেল থেকে আনিয়ে নেন অফিসে। প্রতিদিন লাঞ্চ টাইমের আগে টিফিন বক্স পৌঁছে যায় ডেস্কে। মুম্বাই শহরের এক গৃহবধূ রোজ নতুন নতুন রান্না করেন তাঁর স্বামীর জন্য। সেগুলোকে যত্ন করে একটা টিফিন বক্সে সাজিয়ে তিনি তুলে দেন এক ডাব্বাওয়ালার হাতে। এই ডাব্বাওয়ালারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে এইসব টিফিন বক্স সংগ্রহ করে পৌঁছে দেয় শহরের বিভিন্ন প্রান্তের ছোট বড় অফিসগুলোয়। যাতে অফিসে কাজ করা মানুষগুলো দুপুরবেলা ঘরোয়া খাবারের স্বাদ পান। ঠিকঠাকই চলছিলো সব। তবে একদিন হঠাৎ একটা টিফিনবক্সের ঠিকানা ভুল করে বদলে গেলো। সবুজ কভারে মোড়া টিফিন বক্সটি, ভুল করে পৌঁছে গেলো এক বেসরকারি অফিসের ক্লেইমস ডিপার্টমেন্টের ছোট্ট একটা ডেস্কে। অফিস থেকে ফেরার পর স্বামীর মুখে অন্য একটা তরকারির কৃত্রিম প্রশংসা শুনে ভদ্রমহিলা বুঝতে পারলেন কোথাও একটা ভুল হয়ে গেছে। বদলে গেছে টিফিন বক্সের ঠিকানা। তাই পরেরদিন খাবারের সাথে একটা চিঠি পাঠালেন ভদ্রমহিলা। নিজের নামসহ। টিফিন বক্সের প্রতিটা বাটি চেটেপুটে খাওয়ার জন্য অচেনা মানুষটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে। সেদিন বিকেলে খালি বক্সের সাথে এলো সেই চিঠির উত্তর। "প্রিয় ইলা, আজকের খাবারে নুনটা একটু বেশী ছিলো।" এটুকুই লেখা ছিলো তাতে। এরপর ধীরে ধীরে এগোতে থাকে দিন। চিঠিতে বাড়তে থাকে শব্দের সংখ্যা আর বদলে যেতে থাকে সাজন ফার্নান্ডেজের জীবন। অপেক্ষা নামক শব্দটি আবার ফিরে আসে তাঁর প্রাত্যাহিকতায়। কোনও চিঠিতে সে লেখে তাঁর স্ত্রীর রেখে যাওয়া দূরদর্শনের ভি.সি.আর ক্যাসেটের কথা। কোনও চিঠিতে সে জানতে পারে ওই অচেনা মহিলাটির বাড়ির উপরে থাকা দেশপান্ডে আন্টি ও তার বিকলাঙ্গ বরের কথা। বয়সের ভারে খিটখিটে হয়ে যাওয়া সাজন ধীরে ধীরে পরিণত হয় প্রেমিকে। ফুটপাত দিয়ে যেতে যেতে কিনে নেয় পেইন্টিং। কোনও অচেনা মহিলা ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়েছে শুনলে পরের চিঠি আসা না পর্যন্ত সেই অজ্ঞাত পরিচিতার কথা ভেবে চিন্তায় চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়ে। আর যেদিন সে জানতে পারে যে ওই অচেনা ভদ্রমহিলাটির স্বামী পরকীয়াতে জড়িয়ে পড়েছে, তাই মহিলাটি সবকিছু ছেড়ে মেয়েকে নিয়ে ভূটান চলে যেতে চায়, সে নির্দ্বিধায় লিখে ফেলে— "What if I come to Bhutan with you?" এরপর যেদিন ভদ্রমহিলা জানায় সে দেখা করতে চায়।। আচমকা বয়স যেন কমে যায় সাজনের। ঝলমলিয়ে ওঠে। সিদ্ধান্ত নেয় চাকরি না ছাড়ার। কিন্তু দেখা করার দিন সকালে হঠাৎই সাজন টের পায় নিজের বয়সের কথা। নিজের ফুরিয়ে আসা জীবনের কথা। তাই কথা মতো দুপুর ১.০০টায় কুলার ক্যাফেতে পৌঁছেও দূর থেকে চোখ ভরে দেখে তাঁর ভালোবাসাকে। কাছে যায় না। কথা বলে না। একসময় বিদায় নেয়। নিঃশব্দে। তারপর আর কোনওদিন সাজনের সাথে ইলার দেখা হয় কীনা আমরা কেউ জানতে পারি না। আর আজকের পর জানতেও পারবো না কোনওদিন। তবে এরপর যতবার "লাঞ্চবক্স" ছায়াছবির এই দৃশ্যের মুখোমুখি হবো, এক প্রয়াত ভারতীয় চলচ্চিত্র তারকার অন্য এক ছায়াছবিতে বলে যাওয়া যে সংলাপটা অদ্ভুতভাবে আমার বারংবার মনে পড়বে তা হলো- "মোহাব্বত হ্যায় ইস লিয়ে জানে দিয়া, জিদ হোতি তো বাহোঁ মে হোতি।" ভালো থাকুন সাজন ফার্নান্ডেজ। ❤️Become a supporter of this podcast: https://www.spreaker.com/podcast/apadarthera-rojanamaca-bengali-story-and-poetry--6593287/support.
NOW PLAYING
Episode 10: LunchBox (Tribute to Irfan Khan) । অভীক রায়। অপদার্থ
No transcript for this episode yet
Similar Episodes
Mar 26, 2026 ·1m
Mar 19, 2026 ·34m
Feb 18, 2026 ·11m
Feb 11, 2026 ·45m