EPISODE · May 17, 2020 · 5 MIN
Episode 18: আলাপ। কলমে : সূর্য। কন্ঠে : অর্চিতা ও অপদার্থ।
from অপদার্থের রোজনামচা (BENGALI STORY AND POETRY) · host Swarnendu Roy
🍀 - আচ্ছা! এই এতখানি পথ আপনি একা একা যাবেন! - কেন! কারও সঙ্গী হওয়ার কথা ছিলো বুঝি! - নাঃ। মানে যদি আমি যেতে চাই! সঙ্গে! - বারণ কী করেছি কখনো! - নাঃ। তবে কখনো ইচ্ছাপ্রকাশ'ও তো করেননি... - এই বুঝিয়ে বলাটা আমার দ্বারা হয়ে ওঠে না কোনোকালেই। - আর যদি আজ আমিও মুখ ফুটে না বলতাম! - আমার একা একা ফিরতে তো ভয় করে না কখনোই! - আচ্ছা! আর আমার উপস্থিতিটুকু! সেটার বুঝি কোনো মূল্য নেই! - আছে তো। আমার তো এর আগে কখনোই এই ঢেউগুলিকে এই সূর্যাস্তের সময় এতখানি অদ্ভুত লাগেনি! অন্ধকারে এই ব্রিজের ধারেও আজ অবধি দাঁড়িয়েও থাকিনি কখনো। আজ আপনি আছেন বলেই হয়তো আমিও এতক্ষণ... - কিন্তু আপনি যে বললেন আপনি আজ এই ঘাটে প্রথমবার! - এই নদীর প্রত্যেকটা ঢেউ আমার চেনা। তবে এতবার আসবো ভেবেও এই ঘাটে আসা হয়ে ওঠেনি কোনোদিন। - আপনি কী জানেন যে আমি আজ এই জীবনে প্রথমবার কোনো নদীর ঘাটে এলাম! - হুমম। জানি তো... - জানেন! সেটা কীভাবে! - আপনি জলের ধারে পা ডুবিয়ে বসে ঢেউগুলোর সাথে যেভাবে খেলা করছিলেন, তাতেই বুঝেছিলাম যে ওদের সাথে আপনার এই সদ্য আলাপ। আর তাছাড়াও কাল যেভাবে আপনি বন্ধুদের মুগ্ধ হয়ে আপনার এই নদীর প্রতি টানের গল্প বলছিলেন তাতেও খানিকটা বুঝেছিলাম বৈকি! - তার মানে আপনি আমায় সারপ্রাইজ দিতেই আজ এখানে! - সারপ্রাইজ! তা খানিকটা বলতেই পারেন। - এই গোটা শহরটাই আমার কাছে বড্ডো নতুন জানেন! কিন্তু এখন এই আপনার হাত ধরে যত চিনছি শহরটাকে ততই যেন আপনি নিজেই আমার কাছে এই শহরটির সমার্থক হয়ে উঠছেন। এই এত অল্পদিনের আলাপ তবু যেন মনে হয় কতযুগের চেনা... - হয়তো আমাদের দুজনের জীবনেই না পাওয়ার জায়গাগুলো এতখানি এক বলেই... - আচ্ছা আমি এই যে সর্বক্ষণ এত বকবক করি! আপনার বিরক্তবোধ হয় না! - এই অতি ব্যস্ততার জীবনে দু'দন্ড জিরিয়ে বসে কথা বলার মানুষের যে বড্ডো অভাব। এই যে দেখুন না আমাদের চারিপাশে তো কত মানুষই বসে রয়েছেন সেই বিকাল থেকে। এনাদের কারোর চোখ গঙ্গার দিকে আর নয়তো নিজের মোবাইলে। অথচ দেখুন, আপনি প্রায় শেষ দশ মিনিট ঠায় আমার চোখের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন। মাঝে কথা বলতে বলতেই তিনবার পলক ফেলেছেন যদিও। - আমি! আপনার চোখের দিকে! কই! না তো! মানে! - থাক থাক। আর লজ্জা পেতে হবে না। আমি কিন্তু কিছু মনে করিনি তাতে। - না আসলে আপনি না এত গুছিয়ে কথা বলেন যে আমার তো মনে হয় যে দুই গালে হাত দিয়ে বসে কেবল শুনি। - হ্যাঁ সে তো নিশ্চয়ই শুনবেন, কিন্তু এইবেলা যে আমাদের রওনা দিতে হবে বাড়ির দিকে। - এ'বাবা দেখেছেন গল্প করতে করতে সময়ের খেয়ালই নেই! ইশশ! কতটা দেরী করিয়ে দিলাম আপনার! - না, আসলে এখানে দাঁড়িয়ে এই নদীর হাওয়া গায়ে মাখতে যে আমারও খুব একটা খারাপ লাগছে তা কিন্তু নয়। তবে... - তবে আর কী! কাল তবে আরেকবার এই নদীর হাওয়া গায়ে মাখতে তো আসাই যায়, তাই না! আমিও বরং দুই গালে হাত দিয়ে বসে বাকীকথাগুলো... না মানে, অবশ্যই আপনি যদি রাজি থাকেন তবেই... - হুমম! তা যায়। কিন্তু কাল আসার জন্যে তো আমাদের আজকে বাড়ি ফিরতে হবে মশাই - ওহঃ হ্যাঁ হ্যাঁ! চলুন, হাঁটতে হাঁটতে কথা বলি বরং... ... - আচ্ছা আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করবো! - নিশ্চয়। করুন না। - আপনি এই যে এতবার আসতে চেয়েও এই ঘাটে আপনার আসা হয়ে ওঠেনি কখনোই। অথচ দেখুন আজ আমার জীবনের প্রথমবারের নদীভ্রমণের সাক্ষী হয়ে রইলেন আপনি, এবং সেটাও কিনা কোথায়! সেই একই ঘাটে। পুরোটাই কী কাকতলীয় বলে মনে হয় আপনার! - হুমম নাঃ। হয়তো সম্পূর্ণভাবে না... - না বলছেন! তবে কী! - আসলে কী জানেন তো! আমাদের জীবনের কিছু কিছু জায়গা আজীবন কোনো একজন মানুষের জন্যেই তোলা থাকে। আমার জীবনে এই নদীর ঘাটটিও হয়তো আপনার জন্যই তোলা ছিলো... 🙂 - Surya SureliaBecome a supporter of this podcast: https://www.spreaker.com/podcast/apadarthera-rojanamaca-bengali-story-and-poetry--6593287/support.
What this episode covers
🍀 - আচ্ছা! এই এতখানি পথ আপনি একা একা যাবেন! - কেন! কারও সঙ্গী হওয়ার কথা ছিলো বুঝি! - নাঃ। মানে যদি আমি যেতে চাই! সঙ্গে! - বারণ কী করেছি কখনো! - নাঃ। তবে কখনো ইচ্ছাপ্রকাশ'ও তো করেননি... - এই বুঝিয়ে বলাটা আমার দ্বারা হয়ে ওঠে না কোনোকালেই। - আর যদি আজ আমিও মুখ ফুটে না বলতাম! - আমার একা একা ফিরতে তো ভয় করে না কখনোই! - আচ্ছা! আর আমার উপস্থিতিটুকু! সেটার বুঝি কোনো মূল্য নেই! - আছে তো। আমার তো এর আগে কখনোই এই ঢেউগুলিকে এই সূর্যাস্তের সময় এতখানি অদ্ভুত লাগেনি! অন্ধকারে এই ব্রিজের ধারেও আজ অবধি দাঁড়িয়েও থাকিনি কখনো। আজ আপনি আছেন বলেই হয়তো আমিও এতক্ষণ... - কিন্তু আপনি যে বললেন আপনি আজ এই ঘাটে প্রথমবার! - এই নদীর প্রত্যেকটা ঢেউ আমার চেনা। তবে এতবার আসবো ভেবেও এই ঘাটে আসা হয়ে ওঠেনি কোনোদিন। - আপনি কী জানেন যে আমি আজ এই জীবনে প্রথমবার কোনো নদীর ঘাটে এলাম! - হুমম। জানি তো... - জানেন! সেটা কীভাবে! - আপনি জলের ধারে পা ডুবিয়ে বসে ঢেউগুলোর সাথে যেভাবে খেলা করছিলেন, তাতেই বুঝেছিলাম যে ওদের সাথে আপনার এই সদ্য আলাপ। আর তাছাড়াও কাল যেভাবে আপনি বন্ধুদের মুগ্ধ হয়ে আপনার এই নদীর প্রতি টানের গল্প বলছিলেন তাতেও খানিকটা বুঝেছিলাম বৈকি! - তার মানে আপনি আমায় সারপ্রাইজ দিতেই আজ এখানে! - সারপ্রাইজ! তা খানিকটা বলতেই পারেন। - এই গোটা শহরটাই আমার কাছে বড্ডো নতুন জানেন! কিন্তু এখন এই আপনার হাত ধরে যত চিনছি শহরটাকে ততই যেন আপনি নিজেই আমার কাছে এই শহরটির সমার্থক হয়ে উঠছেন। এই এত অল্পদিনের আলাপ তবু যেন মনে হয় কতযুগের চেনা... - হয়তো আমাদের দুজনের জীবনেই না পাওয়ার জায়গাগুলো এতখানি এক বলেই... - আচ্ছা আমি এই যে সর্বক্ষণ এত বকবক করি! আপনার বিরক্তবোধ হয় না! - এই অতি ব্যস্ততার জীবনে দু'দন্ড জিরিয়ে বসে কথা বলার মানুষের যে বড্ডো অভাব। এই যে দেখুন না আমাদের চারিপাশে তো কত মানুষই বসে রয়েছেন সেই বিকাল থেকে। এনাদের কারোর চোখ গঙ্গার দিকে আর নয়তো নিজের মোবাইলে। অথচ দেখুন, আপনি প্রায় শেষ দশ মিনিট ঠায় আমার চোখের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন। মাঝে কথা বলতে বলতেই তিনবার পলক ফেলেছেন যদিও। - আমি! আপনার চোখের দিকে! কই! না তো! মানে! - থাক থাক। আর লজ্জা পেতে হবে না। আমি কিন্তু কিছু মনে করিনি তাতে। - না আসলে আপনি না এত গুছিয়ে কথা বলেন যে আমার তো মনে হয় যে দুই গালে হাত দিয়ে বসে কেবল শুনি। - হ্যাঁ সে তো নিশ্চয়ই শুনবেন, কিন্তু এইবেলা যে আমাদের রওনা দিতে হবে বাড়ির দিকে। - এ'বাবা দেখেছেন গল্প করতে করতে সময়ের খেয়ালই নেই! ইশশ! কতটা দেরী করিয়ে দিলাম আপনার! - না, আসলে এখানে দাঁড়িয়ে এই নদীর হাওয়া গায়ে মাখতে যে আমারও খুব একটা খারাপ লাগছে তা কিন্তু নয়। তবে... - তবে আর কী! কাল তবে আরেকবার এই নদীর হাওয়া গায়ে মাখতে তো আসাই যায়, তাই না! আমিও বরং দুই গালে হাত দিয়ে বসে বাকীকথাগুলো... না মানে, অবশ্যই আপনি যদি রাজি থাকেন তবেই... - হুমম! তা যায়। কিন্তু কাল আসার জন্যে তো আমাদের আজকে বাড়ি ফিরতে হবে মশাই - ওহঃ হ্যাঁ হ্যাঁ! চলুন, হাঁটতে হাঁটতে কথা বলি বরং... ... - আচ্ছা আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করবো! - নিশ্চয়। করুন না। - আপনি এই যে এতবার আসতে চেয়েও এই ঘাটে আপনার আসা হয়ে ওঠেনি কখনোই। অথচ দেখুন আজ আমার জীবনের প্রথমবারের নদীভ্রমণের সাক্ষী হয়ে রইলেন আপনি, এবং সেটাও কিনা কোথায়! সেই একই ঘাটে। পুরোটাই কী কাকতলীয় বলে মনে হয় আপনার! - হুমম নাঃ। হয়তো সম্পূর্ণভাবে না... - না বলছেন! তবে কী! - আসলে কী জানেন তো! আমাদের জীবনের কিছু কিছু জায়গা আজীবন কোনো একজন মানুষের জন্যেই তোলা থাকে। আমার জীবনে এই নদীর ঘাটটিও হয়তো আপনার জন্যই তোলা ছিলো... 🙂 - Surya SureliaBecome a supporter of this podcast: https://www.spreaker.com/podcast/apadarthera-rojanamaca-bengali-story-and-poetry--6593287/support.
NOW PLAYING
Episode 18: আলাপ। কলমে : সূর্য। কন্ঠে : অর্চিতা ও অপদার্থ।
No transcript for this episode yet
Similar Episodes
Mar 26, 2026 ·1m
Mar 19, 2026 ·34m
Feb 18, 2026 ·11m
Feb 11, 2026 ·45m